সংক্ষেপে
- পজিটিভ স্ক্রিনিংয়ের পর সংক্রমণ সক্রিয় কি না জানতে দ্বিতীয় পরীক্ষা লাগে।
- দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি সাধারণত দীর্ঘদিনের ট্যাবলেটে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সারে না।
- ছোট কোর্সের ট্যাবলেটে হেপাটাইটিস সি ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষের সারে।
গুলিয়ে ফেললে কী সমস্যা
অনেক রোগী আসেন এই ধারণা নিয়ে যে “হেপাটাইটিস” একটাই জিনিস। ফলে হয় তাঁরা সারানো-যায় এমন হেপাটাইটিস সি নিয়ে আতঙ্কে থাকেন, নয়তো আজীবন নজর রাখা দরকার এমন হেপাটাইটিস বি নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কোন ভাইরাস, সেটা জানলেই পরিকল্পনার সবকিছু বদলে যায়।
হেপাটাইটিস বি: নিয়ন্ত্রণ
হেপাটাইটিস বি লিভারের কোষে বসে যায়, আর দীর্ঘদিন বহনকারী বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে বর্তমান ওষুধে পুরোপুরি সরানো যায় না। যা করা যায়, তা হলো ভাইরাসকে দমিয়ে রাখা। কারও জন্য প্রতিদিন একটা অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেট লাগে; অনেকের শুধু ছয় থেকে বারো মাসে একবার চেকআপ, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় ভাইরাস চুপ আছে আর লিভারের ক্ষতি হচ্ছে না।
টিকায় এটা প্রতিরোধ হয়। হেপাটাইটিস বি রোগীর পরিবারের সবার পরীক্ষা দরকার, আর সুরক্ষা না থাকলে টিকা।
হেপাটাইটিস সি: নিরাময়
অ্যান্টিবডি পজিটিভ মানে ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ নিজে থেকেই সারিয়ে ফেলেন; বাকিরা বহন করেন। দ্বিতীয় পরীক্ষা HCV RNA দেখায় ভাইরাস এখনো সক্রিয় কি না। সক্রিয় থাকলে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের ডিরেক্ট-অ্যাক্টিং অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেটে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ সেরে ওঠেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা। কোর্সের তিন মাস পর পরীক্ষায় নিরাময় নিশ্চিত হয়।
হেপাটাইটিস সি-র টিকা নেই। সুরক্ষা হলো নিরাপদ সূঁচ আর পরীক্ষিত রক্ত।
তথ্যসূত্র
অচেনা শব্দ? লিভারের শব্দকোষ দেখুন.
